গলায় গলায় ভাব'- এখানে 'গলায় গলায়' কোন ধরনের দ্বিরুক্তি?
গলায় গলায় ভাব'- এখানে 'গলায় গলায়' কোন ধরনের দ্বিরুক্তি?
-
ক
শব্দাত্মক
-
খ
পদাত্মক
-
গ
ধ্বনাত্মক
-
ঘ
অব্যয়ের
-
ঙ
কোনটিই নয়
যখন কোনো বিভক্তিযুক্ত শব্দ বা পদ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হয় এবং তাদের বিভক্তিও অপরিবর্তিত থাকে, তখন তাকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়।
- বিশ্লেষণ: 'গলায় গলায় ভাব' বাক্যে মূল শব্দ হলো 'গলা'। এর সাথে 'য়' (সপ্তমী) বিভক্তি যুক্ত হয়ে 'গলায়' পদটি গঠিত হয়েছে। এখানে একই বিভক্তিযুক্ত পদ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হওয়ায় এটি পদাত্মক দ্বিরুক্তির একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
- বিকল্প বিশ্লেষণ:
- শব্দাত্মক: যেখানে কেবল দুটি শব্দ পাশাপাশি বসে, বিভক্তি থাকে না (যেমন: লাল লাল ফুল)।
- ধ্বনাত্মক: কোনো বস্তুর কাল্পনিক ধ্বনি বা আওয়াজ বোঝাতে যা ব্যবহৃত হয় (যেমন: মড় মড়, টল টল)।
- অব্যয়ের: যখন অব্যয় পদের দ্বিরুক্তি ঘটে (যেমন: ছি ছি, ধিক ধিক)।
পদের দ্বিরুক্তি
১. দুটি পদে একই বিভক্তি প্রয়োগ করা হয়, শব্দ দুটি ও বিভক্তি অপরিবর্তিত থাকে। যেমন— ঘরে ঘরে লেখাপড়া হচ্ছে। দেশে দেশে ধন্য ধন্য করতে লাগল। মনে মনে আমিও এ কথাই ভেবেছি।
২. দ্বিতীয় পদের আংশিক ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে, কিন্তু পদ-বিভক্তি অবিকৃত থাকে। যেমন— চোর হাতে নাতে ধরা পড়েছে। আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে ।
পদের দ্বিরুক্তির প্রয়োগ
(ক) বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার
১. আধিক্য বোঝাতে : রাশি রাশি ধন, ধামা ধামা ধান ৷
২. সামান্য বোঝাতে :আমি আজ জ্বর জ্বর বোধ করছি।
৩. পরস্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে :তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ। তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।
৪. ক্রিয়া বিশেষণ: ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে চায়।
৫. অনুরূপ কিছু বোঝাতে : তার সঙ্গী সাথী কেউ নেই ৷
৬. আগ্রহ বোঝাতে: ও দাদা দাদা বলে কাঁদছে।
(খ) বিশেষণ শব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার
১. আধিক্য বোঝাতে: ভালো ভালো আম নিয়ে এসো। ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল।
২. তীব্রতা বা সঠিকতা বোঝাতে : গরম গরম জিলাপি, নরম নরম হাত
৩. সামান্যতা বোঝাতে: উড়ু উড়ু ভাব; কালো কালো চেহারা ।
(গ) সর্বনাম শব্দ
বহুবচন বা আধিক্য বোঝাতে: কে কে এলো? কেউ কেউ বলে।
(ঘ) ক্রিয়াবাচক শব্দ
১. বিশেষণ রূপে : এদিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা। তোমার নেই নেই ভাব গেল না ।
২. স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে: দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।
৩. ক্রিয়া বিশেষণ : দেখে দেখে যেও। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাবে?
৪. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।
(ঙ) অব্যয়ের দ্বিরুক্তি
১. ভাবের গভীরতা বোঝাতে : তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি কী করেছ?
২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে : বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
৩. অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
৪. বিশেষণ বোঝাতে পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি ।
৫. ধ্বনিব্যঞ্জনা:ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।
যুগ্মরীতিতে দ্বিরুক্ত শব্দের গঠন
একই শব্দ ঈষৎ পরিবর্তন করে দ্বিরুক্ত শব্দ গঠনের রীতিকে বলে যুগ্মরীতি। যুগ্মরীতিতে দ্বিরুক্ত গঠনের কয়েকটি নিয়ম রয়েছে। যেমন-
১. শব্দের আদি স্বরের পরিবর্তন করে: চুপচাপ, মিটমাট, জারিজুরি।
২. শব্দের অন্ত্যস্বরের পরিবর্তন করে: মারামারি, হাতাহাতি, সরাসরি, জেদাজেদি।
৩. দ্বিতীয়বার ব্যবহারের সময় ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তনে : ছটফট, নিশপিশ, ভাতটাত ৷
৪. সমার্থক বা একার্থক সহচর শব্দ যোগে: চালচলন, রীতিনীতি, বনজঙ্গল, ভয়ডর।
৫. ভিন্নার্থক শব্দ যোগে: ডালভাত, তালাচাবি, পথঘাট, অলিগলি।
৬. বিপরীতার্থক শব্দ যোগে: ছোট-বড়, আসা–যাওয়া, জন্ম-মৃত্যু, আদান-প্রদান ৷
Related Question
View All-
ক
বিশেষ্য
-
খ
আধিক্য বোঝাতে
-
গ
ক্রিয়া বিশেষণরূপে
-
ঘ
ব্যাপ্তি অর্থে
-
ক
চোখে-চোখে
-
খ
থেকে থেকে
-
গ
আকাশে-বাতাসে
-
ঘ
হাড়ে হাড়ে
-
ঙ
কোনটিই নয়
-
ক
ভাবের প্রগাঢ়তা
-
খ
আধিক্য
-
গ
কালের বিস্তার
-
ঘ
সতর্কতা
-
ঙ
কোনটিই নয়
-
ক
সাথে সাথে
-
খ
দিনরাত্রি
-
গ
রাতারাতি
-
ঘ
শুনশান
-
ঙ
কোনোটিই নয়
-
ক
আধিক্য
-
খ
ধারাবাহিকতা
-
গ
নির্দিষ্টতা
-
ঘ
স্বস্থাতা
-
ঙ
কোনোটিই নয়
-
ক
দ্বিরুক্ত শব্দদ্বৈত
-
খ
ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বৈত
-
গ
অনুকার শব্দদ্বৈত
-
ঘ
শব্দদ্বৈত
-
ঙ
কোনটিই নয়
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
Related Question
Question Analytics
মোট উত্তরদাতা
জন